ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সম্পর্ক আরও মজবুত, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি

ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সম্পর্ক আরও মজবুত, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি

ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-র মধ্যে সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করলেন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। সফরকালে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন উভয় নেতা।

এই চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি উদ্ভাবন ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, যৌথ প্রশিক্ষণ, সামরিক মহড়া, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা এবং তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেও দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা করবে। সফর চলাকালীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও চুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলি একনজরে

১) ভাড়িনারে জাহাজ মেরামতির ক্লাস্টার গঠন

Cochin Shipyard Limited এবং Drydocks World-এর মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ভাড়িনারে জাহাজ মেরামতির একটি বড় ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের মেরিটাইম ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকেও আর্থিক সহায়তা মিলবে।

২) দক্ষ কর্মী তৈরিতে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি

জাহাজ মেরামতি ও নির্মাণ ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কোচিন শিপইয়ার্ড, ড্রাই ডকস ওয়ার্ল্ড এবং সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ইন মেরিটাইম অ্যান্ড শিপবিল্ডিং-এর মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কর্মী তৈরি হবে এবং ভারতকে জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতির একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

৩) সুপার কম্পিউটার ক্লাস্টার গঠনে উদ্যোগ

ভারতের C-DAC এবং G42-এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আটটি এক্সাফ্লপ সুপার কম্পিউটার ক্লাস্টার গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত হবে।


এছাড়াও, “মাস্টার অ্যাপ্লিকেশন ফর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড রেগুলেটরি ইন্টারফেস” বা ‘মৈত্রী’-র আওতায় ভার্চ্যুয়াল বাণিজ্য করিডর গঠনের উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছেন দুই দেশের নেতা। এই ডিজিটাল ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে দুই দেশের সীমাশুল্ক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। ফলে জাহাজ চলাচলে সময় ও খরচ—দুইই কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সফরের শেষে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁকে দ্রুত ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url