মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে সংযুক্ত করা নতুন গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতু (Gordie Howe International Bridge) থেকে ভবিষ্যতে অর্জিত লাভের ৫০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র পাবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আগের প্রশাসনের করা সেতু-সংক্রান্ত চুক্তি ছিল "খুবই খারাপভাবে আলোচিত" এবং তাঁর প্রশাসন সেই চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করেছে।
নিজের সামাজিক মাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কানাডা গর্ডি হাও ব্রিজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানায়নি। তবে তাঁর ভাষায়, এতে কোনো সমস্যা নেই, কারণ কানাডা ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক (Tariffs) দিচ্ছে।
ট্রাম্প আরও লেখেন, আগের প্রশাসনের করা মূল চুক্তি আর কার্যকর নয় এবং নতুন শর্ত অনুযায়ী সেতু থেকে হওয়া মুনাফার অর্ধেক যুক্তরাষ্ট্র পাবে।
সোমবার যান চলাচলের জন্য খুলছে সেতু
প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতুটি আগামী সোমবার সাধারণ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে ডেট্রয়েট রেড উইংসের কিংবদন্তি খেলোয়াড় গর্ডি হাও-এর নামে।
শুক্রবার সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের উইন্ডসর শহরের মেয়র ড্রু ডিলকিন্সসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ফেডারেল বা মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সরকারি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন বিতর্ক
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন তিনি কানাডার পণ্যের ওপর বড় অঙ্কের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী সেতুর লাভের ৫০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র পাবে—এ বিষয়ে এখনো কানাডা সরকার বা গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য উত্তর আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অবকাঠামোকে ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে।
