জন্তর মন্তরে CJP আন্দোলন: পরীক্ষা দুর্নীতির প্রতিবাদে উত্তাল দিল্লি, সরকার–আন্দোলনকারীদের টানাপোড়েন

জন্তর মন্তরে CJP আন্দোলন: পরীক্ষা দুর্নীতির প্রতিবাদে উত্তাল দিল্লি, সরকার–আন্দোলনকারীদের টানাপোড়েন

নয়াদিল্লি | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬

নয়াদিল্লির জন্তর মন্তর এলাকায় চলতে থাকা Cockroach Janta Party (CJP)-এর নেতৃত্বাধীন ছাত্র-যুব আন্দোলন ২৩ জুলাইও অব্যাহত রয়েছে। শুরুতে NEET-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন শুরু হলেও, পরে তা বৃহত্তর যুব অসন্তোষ, কর্মসংস্থান এবং জবাবদিহির দাবিতে রূপ নেয়।

আন্দোলনের মূল দাবি

আন্দোলনকারীরা কেন্দ্র সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন—

  • কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
  • পরীক্ষা দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর শাস্তি।
  • শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং আত্মহত্যাকারী পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ।

জন্তর মন্তরে উত্তেজনা

গত কয়েক দিনে জন্তর মন্তর ও সংসদ মার্গ এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের ওপর অযৌক্তিক বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

সরকারের অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু আদালত গঠন নয়, প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

আলোচনা হলেও সমাধান মেলেনি

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, CJP নেতৃত্ব জানিয়েছে যে তাদের মূল দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সরকারও আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে।

দেশজুড়ে সমর্থন

এই আন্দোলন এখন দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বহু ছাত্র, তরুণ-তরুণী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিভিন্ন শহরে সংহতি মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

২৩ জুলাই পর্যন্ত জন্তর মন্তর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে। কিছু সময়ের জন্য আশপাশে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন